বনেও গণতন্ত্র! রাজা হইলো বানর! অতঃপর…


একদা এক বনে এক বানর এক বৃক্ষ হইতে আরেক বৃক্ষের ডাল ধরিয়া ঝুলিয়া ঝুলিয়া যাইতেছিলো। পথিমধ্যে হঠাৎ সে লক্ষ্য করিলো যে রাজা মহাশয় বাঘ আসিতেছেন। বাঘকে দেখিয়া সে থামিয়া গেলো।

cartoon_monkey

দেখিলো রাজা মহাশয় বাঘের পথে যে-ই পড়ুকনা কেন, বাঘকে কুর্নিশ করিয়া যাইতেছে। অনেকে পথ ছাড়িয়া রাস্তার পাশে দাঁড়াইয়া অবাক চোখে বাঘকে দেখিতেছে।

‘আহাহা…রাজা হবার কতোই না মজা। ইশশ আমি যদি রাজা হইতে পারিতাম…তবে আমাকেও নিশ্চই সবাই এমন করিয়া সম্মান করিতো!’

মনের দুঃখে বানর এই গান গাইতে গাইতে নিজের পথ ধরিলো। বানরের এই গান শুনিয়া সবাই ভাবিলো, বানর বোধহয় পাগল হইয়া গিয়াছে। কিন্তু এই কথা যদি রাজা মহাশয়ের কাছে যায় তবে হইবে? বেচারা বানর অকালে মারা পড়িবে।

যাই হোক, এ কান ও কান করিতে করিতে কথাটা রাজা বাঘের কানে চলিয়া গেলো। কথা শুনিয়া রাজা মহাশয় কিছুক্ষণ হাসিলেন। তারপর বলিলেন, যাও ডাকিয়া লইয়া আসো তাকে।

রাজার হুকুম পাওয়া মাত্রই সবাই মিলিয়া বানরকে টানিয়া হিঁচড়ে নিয়া আসিলো। রাজা বাঘ বলিলেন, তাকে ছাড়িয়া দাও।

রাজার হুকুম পাওয়া মাত্রই সবাই বানরকে ছাড়িয়া দিলো। ছাড়া পাইবার পরেও বানর ভয়ে কাপিতেছে।

‘ওহে বানর, তুমি ভয় পাইতেছো কেন? আমি তোমার সাহসের প্রশাংসা করি। কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগিয়াছে। তোমার এমন চিন্তা হইবার কারন কি যে তুমিও রাজা হইলে এরুপ সম্মান পাইতে?’

রাজার কাছ হইতে সাহস পাইয়া বানর বলিল, ‘এই বনে গণতন্ত্র নাই। পৃথিবীর সবখানে আজ গণতন্ত্রের জয়জয়কার। এইখানে নাই। আন্তর্জাতিক মানের ভোটের মাধ্যমে যদি রাজা নির্বাচন করা হইতো, তবে আমিই রাজা হইতাম একথা নিশ্চিত।’

‘বেশ, এক মাস পর ভোট হইবে।’ বলিয়া রাজা বাঘ চলিয়া গেলেন।

বাঘ তো ভোটের কথা বলিয়াই চলে গেলেন। বানর কিন্তু বসিয়া নাই! সে প্রতিদিন বনের পশু পাখিদের সহিত মিটিং করিতে লাগিলো। সমাবেশ করিতে লাগিলো। নির্বাচনী ইশতেহার দিলো। বলিল, ‘আমি রাজা হইলে বনে কোন ভেদাভেদ থাকিবেনা। বন্যায় সবার গাছে থাকিবার ব্যবস্থা করিবো। সবাইকে গাছে চড়ানো শিখাইবো। বাঁদরামি শিখাইবো।’

তাহার কথাই অনেকেই খুশী হইলো। অনেকেই বেজার হইলো। এভাবেই দিন চলিয়া যাইতে লাগিলো। ভোটের দিন আসিতে আসিতে বানরের পাল্লা বেশ ভারি হইয়াছে। ভোটেও দেখা গেলো একই ফল। বানর বিপুল ভোটে বাঘকে পরাজিত করিয়াছে। হইয়াছে বনের রাজা!

বানরের কাছে পরাজয়ে বাঘ লজ্জায়-ক্ষোভে-দুঃখে বন ছাড়িয়া চলিয়া গেলো। সে আর ফিরিয়া আসিলোনা।

ওদিকে বানর রাজা হইয়া খুশীতে লাফাইতে লাগিলো। জয়োৎসব করিতে লাগিলো।

কয়টা দিন বেশ শান্তিতেই গেলো। কিন্তু ধীরে ধীরে নিকটবর্তী বন রাজ্য গুলোতে খবর হইতে লাগিলো যে বাঘকে সরাইয়া বানর রাজা হইয়াছে। ইহা অন্য বোনের রাজারা কিছুতেই মানিয়া লইলোনা।

‘শেষ মেষ আমার পার্শ্ববর্তী বোনের রাজা হইলো কিনা বানর? তাহার সাথে আমার কথা বলিতে হইবে বিভিন্ন সমস্যায়? এটা অসম্মানের ব্যাপার। ইহা কিছুতেই মানা যায়না।’

যে ভাবা সেই কাজ। আক্রমণ করিলো বানর রাজার বন। ভয়ংকর সেই আক্রমণে বানরের রাজ্যের পশু পাখিরা দিশেহারা। বেশিরভাগই মারা পড়িল। বাকিরা বন ছাড়িয়া পালাইয়া গেলো। রাজা বানরকেও পাওয়া গিয়েছিল। কোন এক গাছের ডালে ঝুলছিলেন তিনি। তাহাকে মারিয়া সম্মান দেখাইয়া ঝুলাইয়া রাখা হইয়াছে।

 

মূল কথা: যোগ্য ব্যক্তিকেই সঠিক স্থানে বসানো উচিৎ।

2 responses to “বনেও গণতন্ত্র! রাজা হইলো বানর! অতঃপর…

  1. পিংব্যাকঃ বনেও গণতন্ত্র! রাজা হইলো বানর! অতঃপর… | যুক্তিবাদী

  2. পিংব্যাকঃ বনেও গণতন্ত্র! রাজা হইলো বানর! অতঃপর… | যুক্তিবাদী

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s