বনে-লোকালয়ে বাঘের গর্জন! অতঃপর…


একদা এক অপরাহ্ণে এক বাঘ বনের মধ্যে দিয়া একাকি হাঁটিয়া যাইতেছিলো। সে দেখিলো দূরে হরিণ ছানা ঘাস খাইতেসে। পাশেই তার মা দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া কি যেন ভাবিতেছে। একটু দূরেই একটা বনগরু মনের সুখে জাবড় কাটিতেছে। বানরেরা এক গাছ হইতে আরেক গাছে লাফাইয়া লাফাইয়া যাইতেছে। একে অপরকে ভেংচি কাটিতেছে। পাখিরাও কিচির মিচির করিতেছে।

original

বাঘ মনে মনে ভাবিলো তাহাদের কিঞ্চিৎ ভয় দেখানো প্রয়োজন। অতীতেও সে এরূপ বহুবার করিয়াছে। অন্যদের আনন্দ তাহার সহ্য হয়না। নিজের ক্ষমতা দেখাইতে মন চায় তার।

বিকট শব্দে বাঘ গর্জন করিয়া উঠিল ‘হালুম’! যেই না বাঘ গর্জন করিলো, অমনি পাখির কিচির মিচির থামিয়া গেলো, বনগরু পড়িমরি করিয়া পালাইয়া গেলো, হরিণ ছানাকে লইয়া তার মা কোন গাছের আড়ালে লুকাইয়া গেলো আর বানরেরা ভয়ে নিশ্চুপ হইয়া গেলো। তারা আর বাঁদরামি করিলো না।

বাঘ ধীরে ধীরে অগ্রসর হইলো। বানরগুলার দিকে তাকাইয়া একটা শয়তানি হাসি হাসিলো। তাহার হাসি দেখিয়া বানরেরা আরও ভয় পাইলো। তাহারা কোন নড়চড় করিলোনা। চুপ হইয়া বসিয়া থাকিলো। বাঘ চোখ ফিরাইয়া চারপাশে দেখিলো। সবাই পলাইয়াছে। বাঘ খুশী হইলো। সবাই তাহাকে ভয় পায়। দূর হইতে একটু হালুম করলেই সবাই জানের ভয়ে পালায়। সকলের জান তার হাতের মুঠোয় ভাবিয়া বাঘ অত্যাধিক খুশী হইলো।

বাঘ ফিরিয়া আসিলো। খুব আনন্দে আছে সে। ভাবিলো আজ সব খানে ভয় দেখাইয়া বেড়াইবে সে। কোথায় ভয় দেখানো যায় বাঘ ভাবিতে লাগিলো। ভাবিতে ভাবিতে হঠাৎ সামনে এক লোকালয় নজরে আসিলো তার। সাত পাঁচ না ভাবিয়া বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করিলো। ততোক্ষণে সূর্য আপন পথ ধরিয়াছে। বাঘ দেখিলো মানুষ জন যে যার কাজে ব্যস্ত। কেউ তাহাকে লক্ষ্য করেনাই। ক্রুদ্ধস্বরে সে গর্জন করিয়া উঠিল ‘হালুম’!

বাঘের গর্জন শুনিয়াই মানুষ জন তাহার দিকে তাকাইলো। সবার চোখে মুখে রাজ্যের ভয়। অনেকে দৌড়াইতেছে প্রাণের মায়ায়। কেউ বা ভয়ে স্তব্ধ হইয়া গিয়াছে। রাজ্যের নিরাবতা ভর করিয়াছে লোকালয়ে।

বাঘ ভাবিলো, অনেক হইয়াছে। এবার ফিরিবার দরকার। বাসায় সন্তানেরা তাহার পথ চাহিয়া রইয়াছে। যে-ই না বাঘ ফিরিবার পথে এক পা বাড়াইলো অমনি তাহার মাথায় লাঠির আঘাত পড়িল। বাঘ দেখিলো গোটা দশেক মানুষ তাহাকে লাঠি দিয়া পিটাইতেছে। ওই দূরে আরও অনেক মানুষ। সবার হাতেই লাঠি, বাঁশ, দা, কোদাল। সবাই ছুটিয়া আসিতেছে তাহাকে মারিবার জন্য। বাঘ ভয় পাইলো। সে পলাইবার চেষ্টা করিলো কিন্তু সে নড়িতে পারিলোনা। মানুষেরা তাহাকে ক্রমাগত আঘাত করিতেই লাগিলো। বাঘ তাহার শাবকদের কথা চিন্তা করিয়া চোখের পানি ফেলিলো। কিন্তু তাহার চোখের পানি কাহারও নজরে আসিলোনা।


মূলকথা: সবাই তোমার ভয়ে কোণঠাসা হইবে, এমন ভাবার কারন নেই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s