আমরা বাঙালি, আমরা ভুট্টা খাইনা


বাসে যাচ্ছে আসাদ। ডুমুরিয়াতে কখন পৌছাবে কে জানে। হেল্পার সেই কখন থেকে বলছে সামনেই ডুমুরিয়া। আরেকটু সামনে যে ডুমুরিয়া এটা আসাদও জানে। কিন্তু ভরসা পাচ্ছেনা।

ঢাকা থেকে আসার পথে যা দেখে এসেছে, ভরসা পাবে কি করে? রাস্তার দু ধারের গ্রাম গুলো আগুনে পুড়ছে। বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে আগুনে পুড়ে কয়লা হচ্ছে একসাথে। তাদের চিৎকার-কান্নার সাথে পাকিস্তানি আর্মি আর তাদের দোসরদের হাসি মিলে নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

কাল সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি আসাদ। বারবার পুরানো কথা মনে পড়ছে। মিরার কথা, কাদের, সাইফুল আর শিবাদের কথা।

হঠাৎ আসাদের পাশের সিটে একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ বসলেন। সাদা পাঞ্জাবি পড়া। মাথায় জিন্নাহ টুপি।

কি অবস্থা শুরু করিসে দেখিসেন ভাই?

আসাদ লোকটার দিকে ফিরে তাকায়। কিছু বলেনা।

জাগায় জাগায় নাকি মুক্তি নামিসে। হারামজাদারা মশকরা পাইসে। দ্যাশ নাকি স্বাধীন করতি চায়। আরে বাপু দ্যাশ তো সেই কবেই স্বাধীন হইসে। কয়বার স্বাধীন হয় এক দ্যাশ? কি হেল্পার ভাই, ঠিক কইসি না?

হয় ভাই, ঠিক কথা বলিসেন।

হেল্পার সম্মতি জানায়।

ওরা যা করতিসে তা হচ্ছি ইন্ডিয়ার দালালি। পাকিস্তানরে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র।
কি ভাই ঠিক কইসি না?

আসাদের দিকে তাকায় লোকটি। আসাদ কিছু বলেনা।

তোদের বাপ মুজিবরে তো ধরি নিয়ে গেসে। মারি ফালাইসে কিনা কিডা জানে। পাকিস্তানরে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করলি কি শাস্তি পাতি হতি পারে তা তোরা চিন্তাও করতি পারবিনা শুয়োরের বাচ্চারা।

আসাদের দম বন্ধ হয়ে আসার যোগার। কিছু বলার উপায় নেই। কখন যে আসবে ডুমুরিয়া কে জানে।

তা ভাই আপনি কোয়ানে যাবেন?

ডুমুরিয়া।

না তাকিয়েই উত্তর দেয় আসাদ।

আমি যাচ্ছি আঠারো মাইল। আমি ওইখানের শান্তি কমটির চেয়ারম্যান রইসুদ্দিন। ডুমুরিয়ার দায়িত্ব আমার বন্ধু বিল্লাল হোসেনের। কোন সমস্যা হলি আমার বন্ধুরে কবেন। ইনশাল্লাহ আপনার কিছু হবিনা ভাই।

আসাদ কিছু বলেনা। মন চাইছে খুন করে ফেলতে কিন্তু ধৈর্য ধরে সে।

তা ভাইকি ঢাকার থেই আইসেন?যে অবস্থা হইসে। থাকবেন কি করি। যেইখানে সেইখানে আর্মি মারতিসে, মানুষ মারতিসে, জুলুম করতিসে। আল্লাহ তুমি রহম করো।

ওই সামনে ডুমুরিয়া, ডুমুরিয়া। ভাই কে নামবিন তৈরি হয়া নেন। বাস বেশিক্ষণ থামবিনা। সামনে ডুমুরিয়া।

হেল্পারের ডাক শুনে স্বস্তি পায় আসাদ।

রইসুদ্দিন রাজাকার তার ব্যাগের থেকে ভুট্টা বের করে। একা একাই চিবোয় খানিকক্ষণ।

ভাই নেন ভুট্টা খান।

বাস থামে। আসাদ উঠে দাড়ায়। রইসুদ্দিন রাজাকারের দিকে তাকায়।
আমরা বাঙালি, আমরা ভুট্টা খাইনা।

বাস থেকে নেমে পড়ে আসাদ। রইসুদ্দিন রাজাকার হা করে তাকিয়ে আছে।

2 responses to “আমরা বাঙালি, আমরা ভুট্টা খাইনা

  1. পিংব্যাকঃ আমরা বাঙালি, আমরা ভুট্টা খাইনা | যুক্তিবাদী

  2. পিংব্যাকঃ আমরা বাঙালি, আমরা ভুট্টা খাইনা | যুক্তিবাদী

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s