দুরত্ব ও ভালবাসা


long-distance-relationship

অনেকক্ষণ চুপ করে বসে আছে আসাদ ও রুবা। কারো মুখে টু শব্দটি নেই। যদিও দুজনে পাশাপাশি বসে আছে কিন্তু দুজনের মধ্যকার যে সামান্য দুরত্বটুকু রয়েছে তাও এখন যোজন যোজন মাইল দূরে মনে হচ্ছে।

‘আমার যেতে হবে।’ দুজনের নিরাবতা ভাঙলো রুবা।

‘যাও।’

‘তুমি যাবেনা?’

‘সময় হলে যাবো।’

‘আচ্ছা, আমি যাচ্ছি।’

চলে যেতে উদ্যত হলো রুবা।

‘প্যাকেট দুটো নিয়ে যাও।’

‘আমি কেন নেবো?’

‘নয়তো ফেলে দাও। নষ্ট হয়ে যাক এগুলো।’

আসাদের জেদ সম্পর্কে রুবা ভালভাবেই জানে। তাই আর কথা বাড়ালো না। রুবা না নিলে খাবারের প্যাকেট দুটো ঠিক ওভাবেই পড়ে থাকবে। হয়তো কোন পথশিশু কুঁড়িয়ে নেবে। বিড়ালটাও খেতে পারে। কিন্তু আসাদ স্পর্শও করবেনা ওগুলো।

প্যাকেট দুটো ব্যাগে নেয় রুবা। শেষবারের মতো চোখ মুছে পা বাঁড়ায় বাড়ির পথে।

প্রভাত সবসময় দিনের পূর্বাভাস দেয়না। নইলে কে জানতো আজকের দিনে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা হবে ওদের? একসাথে ঘুরবে, অনেক মজা করবে, দুপুরে একসাথে খাবে, আরও কতো কি! কিন্তু এই সময়টুকুতেই ওদের মাঝে তৈরি হলো দুরত্ব। যে দুরত্ব পাড়ি দেওয়া খুব কঠিন।

রুবা চলে গেছে। একলা বসে আছে আসাদ। কিন্তু এ কি! পানির বোতলটা রেখে গেছে রুবা।

চারপাশের মানুষগুলোকে একবার দেখে নেয় আসাদ। কেউ কি খেয়াল করছে ওকে?

নাহ! কেউ খেয়াল করছেনা। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত।

পানির বোতলটা হাতে নেয় আসাদ। বোতলের ছিপি খুলে ঢকঢক করে পানিটুকু গিলে ফেলে সে।

এই পানির বোতলটারও পিছনে যে কতোটা পরিশ্রম জমা আছে নিজের, তা আসাদের থেকে কে-ইবা ভাল জানে!

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s